
প্রসঙ্গ – অভিভাবকত্ব
মিঠু ঘোষাল
বেশ কয়েক বছর আগের কথা, একটি বহুল প্রচলিত সংবাদপত্রে একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছিলl সেই ছবি এবং ছবি সম্পর্কিত লেখা থেকে আমরা জানতে পেরেছিলাম একটি ছেলে সম্পর্কে। ছেলেটি রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলl তার মায়ের আকুল আবেদনে সাড়া দিয়ে অনেকেই এগিয়ে এসেছিলেন সাহায্য করতে, বিশেষ করে টাকা দিয়ে সাহায্য করতে দ্বিধা করেননি, যারা সেই মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাদের অনেকেই l
ছবিটি দেখে, লেখাটি পড়ে একজন পাঠক ওই সংবাদপত্রে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন পরে। ঐ চিঠির মাধ্যমেই তিনি ফাঁস করে দিয়েছিলেন এক গোপন তথ্য l
কর্মসূত্রে ওই ভদ্রলোককে কলকাতার পথে পথে খুব বেশি ঘোরাফেরা করতে হয়। তো চলতে ফিরতে ওই ছেলেটিকে এবং তার মাকে তিনি প্রায়ই দেখতে পান l ছেলেটি মাঝে মাঝেই পথের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে l তার মা তাকে দেখিয়ে পথ চলতি মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করে l কখনো কখনো ছেলেটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়l ছেলেটির নাম কখনো হয় রামl কখনো রহিমl কখনো দিলজিত, কখনো বা পিটার l চিঠির সঙ্গে তিনি উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণও দাখিল করেছিলেন lওই মহিলাটি সত্যি সত্যি ওই ছেলেটির মা ছিল l কিন্তু, তার ব্যবহার, আচরণ আদৌ মাতৃসুলভ ছিল না l সে অসুস্থ ছেলেটিকে সামনে রেখে পয়সা রোজগার করতোl
অনেক সময় রাস্তাঘাটে দেখা যায় যে, একজন ভিখারিনী কোলে ঘুমন্ত শিশু নিয়ে বসে ভিক্ষা চাইছে l শিশুটি সব সময় ঘুমায় এবং খুব ঘন ঘন শিশুটি বদলে যায়। যদিও ভিখারিনী মহিলাটি একই থাকেl গোপন তদন্তে জানা গেছে যে, ওই শিশুদেরকে মাদকদ্রব্য খাইয়ে সবসময় ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয় l তাই তাদের আয়ু কমে গিয়ে কয়েক সপ্তাহ মাত্র হয়ে যায় l তাই ঘনঘন শিশু বদলাতে হয় l ওই ভিখারিণী ওই শিশুদের মা নয়, তাদের মা-বাবার কাছ থেকে টাকা দিয়ে সে তাদের কিনে নিয়ে আসে l এখন কথা হচ্ছে যে, সে তো শুধু তার ব্যবসা বোঝে l কিন্তু, যারা তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজেদের সন্তানকে মৃত্যু পথের নিশ্চিত যাত্রী বানিয়ে তোলে, তারা আদৌ মনুষ্য পদবাচ্য?
একটা সময় আমাদের দেশে সদ্যবিধবাদের মৃত স্বামীর সঙ্গে জ্বলন্ত চিতায় তুলে দেওয়া হতো l টাকার জন্য, সম্পত্তির লোভে, ধর্মের দোহাই দিয়ে, শাস্ত্রের অপব্যাখা করে,তাদের চিতায় তুলে দিত যে হাতগুলো, সে হাতগুলো হত তাদের দেওরের, ভাসুরের, শশুর বাড়ির তরফের অন্যান্য আত্মীয়দের এমন কি নিজেদের ছেলেদেরও l কিন্তু, মৃত্যু পথযাত্রী অতি বৃদ্ধদের সঙ্গে তাদের বিয়ে দিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করতেl যারা, তারা তো তাদের নিজেদের বাবা-মা, বাপের বাড়ির তরফের অন্যান্য আত্মীয়রা l তাই না? কি করে পারতো তারা এগুলো করতে? আরো আশ্চর্য লাগে যখন দেখি যে, সেই সময়ও একজন মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা টাকে অপরাধ বলেই গণ্য করা হতো l অপরাধী শাস্তির অধিকারীও হত l তাহলে, এক্ষেত্রে কি এই কথাই মনে হয় না যে, সেই সময় মেয়েদেরকে মানুষ হিসাবেই গণ্য করা হতো না!
এইসব প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে অনেকে বলেন – সব কিছুরই গোড়ায় অর্থাৎ মূলে আছে টাকা। সে কালে মেয়েদের অর্থ উপার্জন করার ব্যাপারটাকে সুনজরে দেখা হতো না l নিতান্ত নিরুপায় হয়ে না পড়লে, মেয়েরা অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতেন না বা সে কথা মাথায় আনতেন না l তাই, সামাজিকভাবে এই কথাটা বিশ্বাস করা হতো যে, মেয়ের নাম ফেলি l যমকে দিলেও গেলি, জামাইকে দিলেও গেলি l একটা বিধবা মেয়ে l যে কারুর ভোগে লাগবে না l অর্থ উপার্জন তো করবেই না l বাড়ির কাজকর্ম করার জন্য অনেক লোক আছে l তাকে দরকার নেই সেসবের জন্য l এখন কথা হচ্ছে যে, সে বেঁচে থাকলে তাকে খেতে দিতে হবে, পরতে দিতে হবে, অসুখ-বিসুখ করলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে l কে এত ঝামেলায় যায়! তার থেকে মেরে ফেলো তাকে l সব ঝামেলা চুকে যায় l
আমাদের দেশে ছেলেরা এত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয় সম্ভবত: ওই একই কারণে l ছেলেরা অর্থ উপার্জন করে! করে আসছে আবাহমান কাল ধরে l তাই তাদের এত চাহিদা l বাবা মায়ের কাছে তারা এত আদরের l এত কদরের l সংসার এ তাদের এত সম্মান l এত মর্যাদা l এত গুরুত্ব l তাদের বাবা-মা তাদের মাথায় করে রাখেন l তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছাকে গুরুত্ব দেন l তাদের অসুখ-বিসুখ, চাওয়া পাওয়া, পছন্দ অপছন্দ, সমস্ত কিছুই একটা ইস্যু হয়ে যায় l
এমনকি মেয়েদের বিয়ে হয়, আর ছেলেরা বিয়ে করে l
পুত্র সন্তানদের বলা না বলা কথা কে মর্যাদা দিয়ে তাদের বাবা মায়েরা খুব সূক্ষ্মভাবে এই কথাটাকে লুকিয়ে ফেলেন যে আসলে তারা সম্মান দিচ্ছেন ওই পুত্র সন্তানদের, উপার্জিত অর্থ কে, ওই পুত্র সন্তানদেরকে নয় l হ্যাঁ, এই আমাদের ঐতিহ্য l এই আমাদের পরম্পরা l যুগ যুগ ধরে এই চলে আসছে l বংশানুক্রমিকভাবে আমরা এই দেখতেই অভ্যস্ত l সমাজের অনুশাসন আসলে এই শাসন ব্যবস্থার প্রতিফলন ছাড়া আর কিছু নয় l
কথাগুলো তলিয়ে ভাবলে আমাদেরও মনে হয় এরা সবাই সঠিক কথাই বলেন বা বলছেন । প্রিয় পাঠক, এই প্রসঙ্গে আপনার মতামত জানার ইচ্ছা পোষণ করি l.
একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী একবার বলেছিলেন যে, তার ছোটবেলায় ধারণা ছিল – মেয়েদের রোজগার না করলেও চলে, কিন্তু, ছেলেদের রোজগার করাটা বাধ্যতামূলকl বড় হয়ে যাওয়ার পরেও সেই ধারণাটা খুব একটা বদলে যায়নি l আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাও তো এই একই কথা বলে, তাই না?
শরৎচন্দ্রের সমস্ত চরিত্রই ছিল বাস্তবl পিয়ারি বাইও ছিল একটি বাস্তব চরিত্র l পিয়ারী বাইকে কিছু অর্থের বিনিময়ে তার মা বিক্রি করে দিয়েছিলl
বিয়ের সময় কন্যা পক্ষের কাছ থেকে পণ বাবদ টাকা নিয়ে আজও তো ছেলেপক্ষ নিজেদের ছেলেকে প্রকারান্তরে বিক্রি করে থাকে l তাই না?
সমাজবিদরাও বলেন বিয়েতে মেয়ে পক্ষকে পণ দিতে হয় বলে, আজ ও বাবা মায়েরা মেয়ের বাবা-মা হতে চায় না l কথাটাকে উল্টেl করে বললে বলতে হয়, বিয়ের সময় ছেলেপক্ষ পণ পায় বলেই বাবা মায়েরা ছেলের বাবা মা হতে চায় l
আবার এমন দৃষ্টান্তও দেখা যায় যে, একই পরিবারের লোকজন যখন কন্যা পক্ষ, তখন তারা পণ প্রথার বিরোধিতা করছে l আবার যখন তারাই পাত্র-পক্ষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে, তখন কিন্তু তারা বিয়েতে ঠিক , পণ দাবি করছে- এবং তাও একেবারে অকুণ্ঠভাবে l
একজন মাস্টারমশাই কে উঁচু ক্লাসের ছেলেমেয়েদের সামনে ক্লাসের মধ্যেই বলতে শুনেছিলাম – যেই কেউ রোজগার করতে শুরু করে, সঙ্গে সঙ্গে সে তার আপনজনদের কাছে একটা জীবন্ত মানিব্যাগ হয়ে দাঁড়ায়! – কথাটার সমর্থন খুঁজে পেয়েছিলাম চোখে দেখা একটা ঘটনার মধ্যে l এক্ষেত্রে একটি দশ বছরের গ্রামের মেয়ে এক শহুরে বাবুর বাড়িতে বাচ্চা দেখাশোনার কাজ করতো l ছোট্ট মেয়েটি, ওই শিশুটির মন মুত্র পরিষ্কার করত l বিনিময়ে পেতো দু বেলা দুমুঠো খেতে, আর বছরে দুবার দুটো ফ্রক l তার মাইনের টাকাটা মানি অর্ডার করে তার বাবু পাঠিয়ে দিতেন গ্রামে তার বাবা-মার কাছেl অর্থাৎ পরিশ্রম সে করতো, আর সেই পরিশ্রম লব্ধ অর্থ নিয়ে ভোগ করতেন তার বাবা-মা l নিজের রোজগারের টাকার ওপর তার কোন অধিকার ছিল না l
সন্তানের ভবিষ্যৎ কে অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে, বাবা মা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন , এরকম উদাহরণ আরো আছে। অনেক আছে l ভুরি ভুরি আছে l তার মধ্যে থেকে একটার কথা এখানে উল্লেখ করি – একটি মেয়ের বিয়ে হয়েছিল একেবারে গণ্ড গ্রামেl যদিও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা একটা আধা শহরে l গন্ডগ্রামে গিয়ে ১,২ করে মেয়েটির পাঁচটি ছেলে মেয়ে হল ! তা, ওদের ওখানে অনেকেই সুপারির ব্যবসা করত l এবং সেই ব্যবসাদারদের অনেকেই খোসা সমেত সুপারি শুকোতে দিত l যে মেয়েটির কথা বলছি, তার দুটো ছেলে ঘুরতে-ফিরতে শুকোতে দেওয়া সুপারির থেকে কিছু সুপারি চুরি করে নিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলতোl তাদের মা সেই সুপারি নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে বেশি দামে বিক্রি করতো l এইভাবে ছেলেগুলোকে সে নিজের স্বার্থে চোর বানিয়ে তুলছিল l গ্রামাঞ্চলে এখনো প্রায়ই দেখা যায়, বাবা তার নেশার খরচ যোগাতে ছেলে মেয়েদের স্কুল ছাড়িয়ে কাজে পাঠাচ্ছে!
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সদস্য সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে একটা গ্রামে একটা স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন l তার ক্লাসের ছেলে মেয়েরা মাঝে মাঝে কামাই করত l কারণ জানতে চাইলে বলত যে, মায়ের সঙ্গে আলু তুলতে গিয়েছিল!
অসুস্থ ছেলে মেয়েদের চিকিৎসার অজুহাতে চেনা- অচেনা ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে সেই টাকায় ফুর্তি করে বাবা মা l ছেলেমেয়েরা থেকে যায় সেই একই অন্ধকারেl এরকম ঘটনা বিরল কিছু নয় l
মানসিক রোগী মেয়ের রোগ লুকিয়ে বিয়ে দিয়েছিল মা বাবা l কারণ, রোগের কথা জানার পর যখন ডিভোর্স হয়ে যাবে, তখন খোরপোষ এর টাকা যাতে আদায় করা সম্ভব হয়, সেই কথা ভেবেl
খোরপোষ এর টাকার লোভে অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা মেয়ের সংসার ভেঙে তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে এসে রাখেন। তাকে দিয়ে বাড়ির কাজ করান। এমনকি আরও বেশি টাকার লোভে তাকে একটু একটু করে এগিয়ে দেন পৃথিবীর আদিমতম পেশার দিকে।
মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পরেও অনেক বাবা-মা মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠান না, জামাইকে ঘর জামাই বানিয়ে রাখেন। মেয়ে এবং জামাইয়ের রোজগারের টাকা নিজেদের নাগালের মধ্যে রাখার জন্য l
কোন মাকে বলতে শোনা যায় – যতদিন না ছেলের বিয়ে হচ্ছে, ততদিনই টাকা চাইলে পাবো! তারপরে টাকা চাইতে গেলে ছেলে বলবে, মা, আমার সংসার নেই? অর্থাৎ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সেই টাকার কথাই আসছে।
একটি পরিবারের অন্যতম একটি উপার্জনের উৎসই ছিল দেহ ব্যবসা। বলা যেতে পারে সেটাই ছিল তাদের পারিবারিক ব্যবসা। তাদের একমাত্র মেয়ে যতদিন ছোট ছিল, শান্তিতে ছিল! বড় হয়ে যাওয়ার পর তাকেও তার বাবা-মা পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেওয়ার জন্য অকথ্য নির্যাতন চালাতে লাগলো! – হ্যাঁ, এটা একটা সত্যি ঘটনা!
আবার দুশ্চরিত্রা মধ্যবয়স্কা মা যুবতী মেয়েকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করছেন। মেয়ের নামে বদনাম রটিয়ে, নিজে লাভের গুড় খাচ্ছেন এবং তাও আবার নানা ভাবে – এটাও কোন মিথ্যে ঘটনা নয়।
আরেকটা ঘটনার কথা জানা আছে, যেখানে, দুশ্চরিত্রা মা নিজের শিশু পুত্রকে মেরে মেরে অস্বাভাবিক মানসিকতা যুক্ত করে তুলেছিল। যাতে সে তার মায়ের কীর্তির কথা বাইরে গিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিতে না পারে।
অনেক সময় দেখা যায় যে, কোন মায়ের হয়তো দুই ছেলে আছে। এক ছেলের রোজগার বেশি, এক ছেলের রোজগার কম। তো যে ছেলের রোজগার কম, তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে মা নিজে নিজের ধনী ছেলেটিকে মাছের মুড়োটা দেন, বেশি করে ঘি দেন! তার খুব যত্ন করেন।
অনেক সময় বাবা-মা সন্তানদের ক্রেডিটে ভাগ বসাবার চেষ্টা করেন । একটি ছেলে মাধ্যমিকে প্রত্যেকটা সাবজেক্টে ৯০-৯৫ করে নম্বর পেয়েছিল। তার বাবা সবাইকে বলে বেড়াতে লাগলেন – আমি বলে দিয়েছিলাম এই নম্বর পেতে হবে! না হলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার! এ কথা শুনে একজন উত্তর দিলেন – আপনার তাহলে উচিত ছিল ওকে বলা যে, প্রত্যেক সাবজেক্টে ফুল মার্কস পেতে হবে!
যে অভিভাবকেরা হীনমন্যতায় ভোগেন, হতাশাগ্রস্থ, তারা অনেক সময়ই সন্তানদের ক্রেডিট নিজেরা নিয়ে নেন। নিজেদের ডিসক্রেডিট তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। সব সময় সন্তানদের দোষ খুঁজে বেড়ান। কোন দোষ খুঁজে না পেলে, মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এইভাবে তারা আত্মবিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে জানা যায় যে পুরনো দিনের এক নামি অভিনেত্রীকে ভীষণ ঈর্ষা করতেন তার জননী। এমনকি তার বিয়েও দিয়েছিলেন নিজের সুবিধার কথা ভেবে । তার ভালোর জন্য নয় । আধুনিক যুগের এক লেখিকার গর্ভধারিনী সম্পর্কে জানা যায় যে ওই লেখিকার বই বেরোলে তার মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য মায়ের পতি এবং উপপতি শাড়ি গয়না কিনে দিতেন। এবং ওই লেখিকার সঙ্গে খুব বিশ্রী ব্যবহার করতেন। যাতে তার ঈর্ষান্বিত গর্ভধারিনী সন্তুষ্ট হন।
অবস্থা সামাল দিতে ওই লেখিকা চারটে বই লিখে মায়ের নাম দিয়ে ছাপালেন। সেই চারটি বই যে টাকা উপার্জন করল সর্বস্ব তিনি দিয়ে দিলেন তার মাকে। ভাবলেন এবার থেকে হয়তো তিনি একটু ভালো ব্যবহার পাবেন। কিন্তু ফল হল উল্টো। মায়ের দাবি বাড়তে লাগলো। তার চাহিদা হয়ে দাঁড়ালো এই যে লেখিকা বই লিখবেন কিন্তু তা ছাপা হবে মায়ের নামে। বইয়ের থেকে প্রাপ্ত সমস্ত টাকা তুলে দিতে হবে মায়ের হাতে। নিজের খরচ চালানোর জন্য এবং মায়ের হাতে আরও টাকা তুলে দেওয়ার জন্য লেখিকাকে দেহ ব্যবসায় নামতে হবে। এই প্রস্তাবে লেখিকা রাজি হলেন না।
শেষ পর্যন্ত সেই মহান জননী নিজের পতি ও উপপতিকে উৎসাহিত করতে শুরু করেন যাতে তারা ওই লেখিকা কে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তাও আবার নিয়মিত ভাবে।
সুধী পাঠক, বিশ্বাস করুন এই সমস্ত ঘটনাই সত্য!
কেউ কেউ হয়তো বলবেন – এ নিতান্তই বিচ্ছিন্ন ঘটনা! কেউ কেউ বলতে পারেন- হয়তো তিন – চার পার্সেন্ট লোক এরকম হয়! কিন্তু দেড়শ কোটি লোকের দেশে তিন চার শতাংশ সংখ্যায় কম নয়।
আর এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা তাও অনেকে মানতে চান না। এ প্রসঙ্গে কয়েকটা কথা বলি –
একবার একজনকে বলতে শুনেছিলাম মেয়েরা বাপের বাড়িতে থাকে নকরানি, শশুর বাড়িতে গিয়ে হয়ে যায় মহারানী! একজন মহিলা বলেছিলেন – মেয়ের বাবা-মা চায়, একটা সময় মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবে, তার দায়িত্ব অন্য কেউ নেবে। এখন, যদি মেয়েটি অবিবাহিতা থেকে যায় কিংবা বিয়ের পরেও বাপের বাড়িতেই থাকতে চায়, তাহলে তার প্রতি তার বাবা-মার মনোভাব অন্যরকম হয়ে যায়!
একটি মেয়ে একবার বলেছিল – ছেলের বউয়ের বিরুদ্ধে দল ভারি করার জন্য মায়ের মেয়েকে দরকার। তা নাহলে মেয়ের কদর কোন মা-বাবা করে না। আরো একটি মেয়ে বলেছিল – একটা মেয়ে সব থেকে বেশি বঞ্চিত, শোষিত, নিপীড়িত হয় তার নিজের বাবা-মার দ্বারা!
একজন মহিলা আবৃত্তি শিল্পী বলেছিলেন – মেয়ে সন্তান খুব দুঃখে আছে দেখলে মা সবথেকে বেশি খুশি হন! মেয়ের সুখটা মা সহ্য করতে পারেন না!
অন্য একজন লেখিকা বলেছিলেন – প্রতিভাবান সন্তানদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে প্রথমদিকে অভিভাবকেরা সাহায্য করেন প্রথমত: টাকা রোজগারের জন্য! দ্বিতীয়ত : অন্যদের বুকে ঈর্ষা জাগানোর জন্য। তারপর যখন সন্তানদের সাফল্য আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায়। তখন বাবা-মা নিজেরা তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। আর ঈর্ষাটা প্রথম থেকেই থাকে।
অনেক সময় এরকম বিজ্ঞাপন দেখা যায় যে আট বছর বয়স্ক সংগীত শিল্পী বা নৃত্যশিল্পী কে দিয়ে সারারাত ফাংশন করানোর জন্য বুকিং করার ফোন নাম্বার দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিভার বিকাশ ঘটানো হচ্ছে না। প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে টাকা রোজগার করা হচ্ছে।
অনেক সময় দেখা যায় যে, একটা বাড়িতে একটা কিশোরী মেয়ে আছে। এবং তারই সমবয়সী একটি কাজের মেয়েও আছে। এবং কাজের মেয়েটি তার প্রতি ঈর্ষা প্রবন। মেয়ের মা কাজের মেয়েকে খুশি করার জন্য তার সামনে মেয়েটিকে অপমান করছে।
সন্তানের প্রতি স্নেহ প্রবণ আত্মীয়দের অনেক সময় ব্ল্যাকমেইল করতে সন্তানদের ব্যবহার করে বাবা মা।
দাদুকে প্রণাম কর। দাদু তোকে টাকা দেবে। – এই ধরনের কথা বলে সন্তানদেরকে কুশিক্ষা দেন বাবা মা অনেক সময়!
সন্তানকে অপয়া ইত্যাদি বলে, তাদের জন্য কত টাকা ব্যয় করছেন, কত পরিশ্রম করছেন তার ফিরিস্তি দিয়ে তাদের একটু একটু করে মানসিক রোগগ্রস্থ করে তোলেন।
এই প্রাবন্ধিকের বাড়িতে একজন মহিলা কাজ করতো। তার সঙ্গে আসতো তার সাত বছরের ছেলে। অ-আ-ক-খ জানতো না। স্কুলে পাশ ফেল প্রথা না থাকায় ক্লাসে উঠে যেত প্রতিবছর। সারাক্ষণ সে মোবাইল নিয়ে বসে থাকতো। এই প্রাবন্ধিক তার মায়ের কাছে দরবার করেছিলেন তার হাতে মোবাইলের পরিবর্তে রং পেন্সিল ও ড্রয়িং বুক তুলে দিতে। তাকে দিয়ে হাতের লেখা করাতে। সেই মহিলা এই সমস্ত কথা কানে তোলেনি। এমনকি এই প্রাবন্ধিক এই আর্জি জানিয়েছিলেন যে ছেলেটির চোখ দুটোকে মোবাইলের রেডিয়েশন থেকে বাঁচানোর জন্য তাকে একটা চশমা অন্তত কিনে দেওয়া হোক। সে কথাটাও হেসে উড়িয়ে দেওয়া হয়।
অথচ এই প্রাবন্ধিক ছেলেটিকে যখন নিজের লেখা কোন গান শোনাতেন সে চুপ করে শুনত। নিজের লেখা কোন ছড়া শেখাতেন সে শেখার চেষ্টা করত। সবকিছু দেখে শুনে এক প্রতিবেশিনী বলেছিলেন যে আজকাল বাবা মায়েরা ছেলে-মেয়েদের মোবাইল ব্যবহার করতে বাধ্য করার মাধ্যমে আসলে বড়লোকি চাল দেখায় । এই প্রাবন্ধিক এখনো পর্যন্ত একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাননি- ওই কাজের মহিলা ওই মা কি সত্যিই তার সন্তানের শুভাকাঙ্ক্ষী?
দুটো ঘটনার কথা জানি যেখানে দুজন অপরাধীকে বাঁচাবার জন্য তাদের আইনজীবীরা আদালতে দাঁড়িয়ে জজ সাহেবের সামনে আবদার জানিয়েছিলেন যে ওই অপরাধীদের যেন শাস্তি না দেওয়া হয়। কারণ তাহলে ওদের কিছু সন্তানদের দেখাশোনা করবে কে? দুটো ক্ষেত্রেই জানা গিয়েছিল যে ওই শিশু সন্তানদের সঙ্গে তাদের ওই অপরাধী বাবাদের বহুদিন কোন সম্পর্কই নেই।
কিছুদিন আগে একটা সার্ভে হয়েছিল। যেখানে দেখা গিয়েছিল দেশের বিরাট সংখ্যক শিশু বাবা আমার কাছ থেকে মানসিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। এবং বিরাট সংখ্যক শিশু শারীরিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। অর্থাৎ ভারতবর্ষ নামক দেশের প্রায় প্রতিটি শিশুই হয় শারীরিকভাবে অথবা মানসিকভাবে অথবা দুই ভাবেই নির্যাতিত হচ্ছে- নিজের নিজের জন্মদাতা জন্মদাত্রীর দ্বারা ।
ছেলে-মেয়েদেরকে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি বলে সিনেমায় যান, হোটেলে খান অনেক বাবা মা- কোনরকম অপরাধবোধ ছাড়াই ।
কিছুদিন আগে খবরের কাগজে পাশাপাশি তিনটি খবর বেরিয়েছিল! প্রথম টিতে ছিল- ১৪ বছরের মেয়েকে বিয়ের নামে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে তার বাবা! দ্বিতীয় খবরটি এক তেরো বছরের কিশোরীর নিজের জন্মদাতার দ্বারা শারীরিকভাবে নির্যাতিত হওয়ার। তৃতীয় খবরটি ছিল মেয়ের দৈহিক লাঞ্ছনাকারী কে সাত বছর বাদে মেয়েটির বাবার দ্বারা কুপিয়ে খুন করা সংক্রান্ত। একজন খবরগুলো পড়ে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন- আইনের চোখে তিনজনেই অপরাধী! কিন্তু শেষ খবরটিতে যে বাবার কথা বলা হয়েছে, বাবা হিসেবে তিনি শ্রেষ্ঠ!
কাউকে অভিযোগের তীরে বিদ্ধ করা এই প্রবন্ধ রচনার উদ্দেশ্য নয়! তাই সব শেষে এটুকু বলি – বাবা-মা হওয়া নয় মুখের কথা, এটা ১৬র উপর ১৮ আনা সত্য! এবং এটাও ঠিক যে, শিশুরা দেশের এবং সমাজের সম্পদ! সে কথা ভেবে তাদের সত্যিকারের মানুষ করে তোলার দিকেই নজর দেওয়া উচিত অভিভাবকদের! এক্ষেত্রে যথাসম্ভব স্বার্থহীন থাকাটাই শুধু বাঞ্ছনীয়ই নয় বরং উচিতই !
Ŵя. ΜIŦĦỮ GĦØŞĦΔŁ (Μ.Δ.)
(ŴØŘŁĐ Ř૬ĆØŘĐ ĦØŁĐ૬Ř)
ŴŘIŦ૬Ř , PØ૬Ŧ, ŞĆŘIPŦ & ŞØŇG ŴŘIŦ૬Ř
(PŘIŇŦ Μ૬ĐIΔ,₣IŁΜ-ŦV-ΔĐ IŇĐỮŞŦŘ¥, Ŵ૬β ŴØŘŁĐ)
8777532735
9007784486
justmithu.in
http://jokesquotesstatus.com/
https://www.bing.com/search? dsform=sk&q=multiple+world+ records+holder+mithu&mkt=en- IN&setLang=EN&FORM=SWTHST
https://youthsaga.com/mithu- ghoshal/?fbclid= IwY2xjawLkQxxleHRuA2FlbQIxMQAB HnoVhh-j7dXHPd6j5_ mFaU6oZa0Lw94VSiLRTy1SrLLzsDH3 YD02Hri0ieZy_aem_ 9HWKFxHWRoV5qUx4Yf005w
(ŴØŘŁĐ Ř૬ĆØŘĐ ĦØŁĐ૬Ř)
ŴŘIŦ૬Ř , PØ૬Ŧ, ŞĆŘIPŦ & ŞØŇG ŴŘIŦ૬Ř
(PŘIŇŦ Μ૬ĐIΔ,₣IŁΜ-ŦV-ΔĐ IŇĐỮŞŦŘ¥, Ŵ૬β ŴØŘŁĐ)
8777532735
9007784486
justmithu.in
http://jokesquotesstatus.com/
https://www.bing.com/search?
https://youthsaga.com/mithu-
